বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং শিক্ষা

LATEST :
সাইটটির উন্নয়ন চলছে এবং শীঘ্রই উন্নয়ন করা হবে

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

তারুণ্যের পৃথিবী

স্মরণীয় দিন রোজ রোজ আসে না। আসে কখনো সখনো। ২ ও ৩ জুন সেরকমই এক স্মরণীয় সময়, যা নিঃসন্দেহে মনে থাকবে বহুদিন। ওই দুই দিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতিসংঘের ‘ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল ফোরাম অন ইয়ুথ ২০১৪’। আর এ সম্মেলনে ‘ইউএন বাংলাদেশ’–এর মনোনয়নে বাংলাদেশি তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম আমরা। অামরা মানে আমি কাশফিয়া নেহরীন ও নাবিরা রহমান। আমি পড়ছি বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে, আর নাবিরা পড়ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে।
এবার আসি স্মরণীয় সেই দিন দুটির কথায়। সম্মেলনের প্রথম দিন। মিলনায়তনে ঢুকতেই কানে ভেসে এলো সম্মেলনের থিম সং যার বাংলা অনেকটা এ রকম ‘সেই পৃথিবীই আমরা চাই, যে পৃথিবী আমাদের চায়’। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন। বান কি মুন তাঁর বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে দ্বিতীয় কোনো পরিকল্পনা নেই, কারণ, দ্বিতীয় পৃথিবী বলে কিছু নেই। তোমাদের দেশ তোমাদের কী দিতে পারছে না, সেটা চিন্তা না করে তুমি দেশের জন্য কী করতে পারো সেটাই চিন্তা করো এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে সুন্দর পৃথিবী গড়ো।’
প্রথম সেশনে ছিল যুব কর্মসংস্থান। আগামীর পৃথিবীতে প্রায় ৬০ কোটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, এ কারণে প্রতিটি দেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় কর্মসংস্থান-বিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। উঠে আসে উন্নয়নশীল দেেশ কৃষি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধার বিষয়টি।
সেশনে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। আমি প্রশ্ন করেছিলাম বাংলাদেশ থেকে যারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যান, তাঁদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়। এ ছাড়া জানতে চেয়েছিলাম, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি তরুণেরা কীভাবে জড়িত হতে পারে।
দ্বিতীয় সেশন ছিল সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আফ্রিকার অগ্রগতির অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত। নাবিরা রহমান বলেন, ‘যুবসমাজের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব।’ আমার প্রশ্ন ছিল, আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনে যেমন অনেক ক্ষতি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশে জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে আছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাসমান মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে আমাদের চেয়ে উন্নত দেশগুলো বেশি দায়ী৷ কিন্তু এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা৷ এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের তরুণেরা কীভাবে সোচ্চার হয়ে কাজ করতে পারে।’
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের বিষয় ছিল ‘মাই ওয়ার্ল্ড ২০১৫’ শীর্ষক এক জরিপ। যে জরিপে প্রায় ১৩ লাখ তরুণ অংশগ্রহণ করে। জরিপে উঠে আসা সর্বাধিক গুরুত্বপ্রাপ্ত পাঁচটি বিষয় হচ্ছে: কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, শান্তি ও স্বেচ্ছাসেবা। এই জরিপের আলোকে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ কল’ নামে একটি সনদ তৈরি হয়।
আমি অংশ নিয়েছিলাম কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ, আর নাবিরা অংশ নেয় শিক্ষা বিষয়ক সেশনে। কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগে আলোচিত হয় কীভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও একত্রে কাজ করতে পারে এবং কীভাবে কারিগরি শিক্ষাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
এই সেশনে আমার বক্তব্য ছিল দেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের কথা কীভাবে বিশ্বজুড়ে জানানো যায়৷ এই সনদকে কাজে লাগিয়ে বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কীভাবে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা যায়। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের সঙ্গে তরুণদের সংলাপ, উদ্যোক্তা-বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নে সনদের ভূমিকা কেমন হতে পারে। উদ্যোক্তাদের মূলধনের ব্যাপারে বেসরকারি মাধ্যমকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নারী উদ্যোক্তা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়।
এইসব অভিজ্ঞতা কি ভোলা যায়? নাকি ভোলার মতো? এমন না ভোলা অভিজ্ঞতা আছে আরো। এই যেমন সম্মেলনে আমার পাশে যিনি ছিলেন তাকে তো চিনতেই পারিনি। পারার কথাও নয়। পরে যখন তাঁর সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠল তখন জানলাম তিনি সেনেগালের মন্ত্রী এবং একটি শহরের মেয়র!
এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন শতাধিক দেশের যুব প্রতিনিধিরা। আমাদের কথা বলার সুযোগ হয় যুুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলারুশ, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, নেদারল্যান্ড, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, ঘানা, মেক্সিকো, পেরু প্রভৃতি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। এ ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাঁদের আমরা জানালাম জাতিসংঘ বাংলাদেশে কীভাবে এ দেশের তরুণসমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে জানলাম বিশ্বব্যাপী তরুণদের বর্তমান অবস্থা কেমন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এই যুব অধিবেশনে আমাদের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে ‘ইউএন বাংলাদেশ (জাতিসংঘ বাংলাদেশ)’–এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতার ফলে। আমার ও নাবিরার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় ছিল প্রতিটি অধিবেশনে পুরো পৃথিবীর সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা ও জোরালো কণ্ঠে এ দেশের তরুণদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে পারা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

স্বত্বাধিকারী © ২০১৫ প্রোগ্রামিং এর মহাজগৎ সব অধিকার সংরক্ষিত
^